বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্মেলন ছাড়াই বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন এবং কমিটি–বাণিজ্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সভাপতি আল নাহিয়ান জয় বলেছেন, বিভিন্ন সময় পদ–বাণিজ্যের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো ইউনিটে পদ–বাণিজ্য করে আমরা কমিটি করিনি। ছাত্রলীগে পদ–বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই।’
ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। এরপর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আল নাহিয়ান এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান একসময়ে ছাত্রদলে যুক্ত ছিলেন এরকম দাবি করেন সংগঠনের এক নেতা। এতে রীতিমতো তোলপাড় ঘটেছিল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের হয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছিলেন।
এদিকে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁদের ভারমুক্ত করেছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে সম্মেলন ছাড়াই বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন, কমিটি–বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ তুলে অনলাইনে ও মাঠে সক্রিয় ছিলেন খোদ কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও এমন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন আল নাহিয়ান ও লেখক। ১৮ মিনিট ধরে এসব প্রশ্নের জবাবও দেন বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা দুই নেতা।
ছাত্রলীগে পদ ও কমিটি–বাণিজ্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আল নাহিয়ান খান বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিটে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকেন। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য দুজনকে বাছাই করা অনেক কষ্টসাধ্য ও চ্যালেঞ্জিং বিষয়। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ইউনিটে চার-পাঁচটি করে গ্রুপ (পক্ষ) থাকে। সেখানে দুটি গ্রুপ থেকে যখন নেতা হন, তখন বাকি পক্ষগুলো মনে করে যে হয়তো অন্য কোনোভাবে কেউ নেতৃত্বে এসেছেন। বিভিন্ন সময় পদ–বাণিজ্যের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো ইউনিটে পদ–বাণিজ্য করে আমরা কমিটি করিনি। ছাত্রলীগে পদ–বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই।’
সম্প্রতি ফেসবুকে ফাঁস হওয়া ছাত্রলীগের দুজন কেন্দ্রীয় নেতার পদ–বাণিজ্যবিষয়ক অডিও কথোপকথনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আল নাহিয়ান বলেন, ‘অডিও রেকর্ডগুলো আমরা শুনেছি। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ–বাণিজ্যের কোনো বিষয় আসেনি। এটি তাঁদের ব্যক্তিগত ফোনালাপ হিসেবে প্রচারিত হয়েছে।’
একই প্রসঙ্গে লেখক বলেন, ‘একটি অডিও রেকর্ডে ছাত্রলীগের পদের জন্য কারও কাছ থেকে টাকা চাওয়ার মতো কিছু নেই। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত লেনদেনের অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছেড়ে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য রেকর্ডটিতে টাকাপয়সা–বিষয়ক কোনো শব্দই ব্যবহার করা হয়নি। এটা ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা।’
সম্মেলন ছাড়া কমিটি গঠনের বিষয়ে লেখক বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম দুই বছর করোনার বিধিনিষেধের কারণে কোনো সভা-সমাবেশ বা সম্মেলন করতে পারিনি। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কোনো সাংগঠনিক নির্দেশনাও পাঠানো হয়নি। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন ছাত্রলীগের ১২০টি ইউনিটের ১১৮টি ইউনিটের কমিটি ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। কিছু ইউনিটে ন্যূনতম সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল না।
করোনার কারণে সেখানে গিয়ে সম্মেলন আয়োজনের সুযোগ ছিল না। সে জন্য ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চারজন আওয়ামী লীগ নেতার পাশাপাশি দেশরত্ন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব কমিটি করা সম্ভব, তা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।’
অগঠনতান্ত্রিক চিঠির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে পদায়ন প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে লেখক বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট। এর বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটি, জাতীয় কমিটি কিংবা উপকমিটিকেন্দ্রিক গঠনতান্ত্রিক নীতিমালা রয়েছে। বর্ধিত অংশটি কেন্দ্রীয় কমিটির। সংশয় থাকলে সাংবাদিকদের দপ্তর সেলে গিয়ে সঠিক সংখ্যাটি জেনে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক পাভেল হায়দার চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তার সংবাদের তথ্য বানোয়াট। সেখানে আইন লঙ্ঘনের অপরাধ করেছে। তারা আইনি নোটিশের উত্তর না দেওয়ায় মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা প্রমাণ করতে পারেনি।
নানা অভিযোগের মুখে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের পর সম্প্রতি রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি কেন পুনর্বহাল করা হলো, সেই বিষষে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি আল নাহিয়ান ও লেখক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেখক বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটের সমাধানের পর কমিটি পুনর্বহাল করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্তের মাধ্যমে আমরা কমিটি স্থগিত করেছিলাম। সেটির সমাধান হওয়ার কারণেই কমিটি পুনর্বহাল করা হয়েছে।’
জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৪টি উপকমিটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান লেখক ভট্টাচার্য। আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ২ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মিলিত সম্মেলন আর ৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম, আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক নাহিদ হাসান, কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মুহাম্মদ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আল আমিন রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় একসময় ছাত্রদলে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ। চলতি বছরের জানুয়ারি ১৫ জানুয়ারি রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে ওই অভিযোগ করেন তিনি।
লাইভে রিয়াদ বলেন, জয়ের বাবা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাবুগঞ্জ-উজিরপুর আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সেই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার বাবা ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বিমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছিলেন। তিনি তৎকালীন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার পিএ-এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন আওয়ামী লীগ বর্জন করেছিল, সেই নির্বাচনে বিএনপির ডামি প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেছিলেন জয়ের বাবা।
ছাত্রলীগের সভাপতির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রসঙ্গে রিয়াদ বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন জয়। তখন তার ফুপাতো ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তার কক্ষে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করেছেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন জয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের হয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আপন চাচাতো ভাইকে নিজের ক্ষমতাবলে নৌকার বিরুদ্ধে জিতিয়েছেন জয়।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply